লেখক: মাওলানা মুহাম্মাদ ইমরান হুসাইন
ইসলামে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমা। মহান আল্লাহ তাআলা এ দিনকে মুসলিম উম্মতের জন্য বিশেষ দান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। অন্য ধর্মাবলম্বীরা ইবাদতের জন্য শনিবার বা রবিবারকে বেছে নিলেও, প্রকৃত শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে জুমাবারই আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত আছে—রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “আমরা পরে আগমনকারী হলেও কিয়ামতের দিন অগ্রগামী হব। অন্যদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল আমাদের আগে, কিন্তু আল্লাহ আমাদের সঠিক দিনের হিদায়ত দিয়েছেন। তাই ইহুদিদের দিন শনিবার আর নাসারাদের দিন রবিবার হলেও আমাদের দিন জুমা।”
হাদিসে এসেছে, জুমার দিন পাঁচটি মহান ঘটনার সাক্ষী:
১. এ দিন আদম (আ.)-এর সৃষ্টি হয়েছে।
২. এ দিন তাঁকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে।
৩. এ দিনই তাঁর ইন্তিকাল হয়েছে।
৪. জুমার দিন এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন বান্দা দোআ করলে আল্লাহ তা কবুল করেন—হারাম বিষয় ছাড়া।
৫. কিয়ামত সংঘটিত হবে জুমার দিনেই।
এ কারণেই রাসূল ﷺ জুমাকে বলেছেন “সপ্তাহের সর্দার” এবং ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের চেয়েও মহান দিন (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, মুআত্তা মালিক)।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, জুমার দিন ভোর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত জিন ও মানুষ ছাড়া সব সৃষ্টিজীব কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার ভয়ে আতঙ্কিত থাকে। ফেরেশতারাও এ দিনে বিশেষ ভয়ে থাকেন (আহমাদ, আবু ইয়ালা, মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক)।
জুমার দিনের সবচেয়ে বড় আমল হলো গুরুত্বসহকারে জুমার নামাজ আদায় করা। এজন্য সুন্নত হলো—
ভালোভাবে গোসল করা,
পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পোশাক পরিধান,
সুগন্ধি ব্যবহার করা,
শুরু ওয়াক্তেই মসজিদে যাওয়া,
নীরবে খুতবা শোনা এবং
নামাজে মনোযোগ দেওয়া।
সহিহ হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, উত্তম জামা পরে, আতর ব্যবহার করে, মসজিদে গিয়ে কাউকে কষ্ট না দেয়, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে—তার এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত গোনাহ মাফ হয়ে যায়। এমনকি অতিরিক্ত আরও তিন দিনের গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয় (সহিহ মুসলিম, ইবনে খুযাইমা)।
জান্নাতবাসীদের জন্য জুমা হবে বিশেষ আনন্দ ও প্রাপ্তির দিন। আল্লাহর বিশেষ ব্যবস্থায় জান্নাতীরা জুমার দিন তাঁর সাক্ষাত ও সন্তুষ্টি লাভ করবে। এজন্য ফেরেশতারা জুমার দিনকে ডাকেন “ইয়াউমুল মাযীদ” অর্থাৎ অনন্য প্রাপ্তির দিন (আবু ইয়ালা, তাবরানি)।
ইসলামে জুমার দিনকে দেওয়া হয়েছে অসাধারণ মর্যাদা। এ দিন নামাজ, দোআ, জিকির ও খুতবা শোনার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি ও সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। জুমা শুধু সাপ্তাহিক নামাজের দিন নয়, বরং এটি মুসলিম উম্মতের আধ্যাত্মিক শক্তি, ঐক্যের প্রতীক এবং গোনাহ মোচনের সুবর্ণ সুযোগ।