ঢাকা, ধর্ম ডেস্ক:
দোয়া মুসলমানের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। কোরআন ও হাদিসে দোয়া করার সুনির্দিষ্ট আদব ও নিয়মের কথা বলা হয়েছে। আলেমরা বলেন, দোয়া শুধু মুখের কথা নয়; বরং এর সঙ্গে থাকতে হবে আন্তরিকতা, বিনয় ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা।
আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেছেন, “আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে তাকে ডাক।” (সূরা গাফির: ১৪)
হাদিসে এসেছে, দোয়া শুরুর আগে আল্লাহর প্রশংসা (হামদ) ও রাসুলুল্লাহ ﷺ–এর ওপর দরুদ পড়তে হবে। এরপর ইচ্ছামতো দোয়া করা যাবে।
হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে, দোয়া কবুল হতে দেরি হলে হতাশ হওয়া যাবে না। নবীজি ﷺ বলেছেন, “বান্দা যতক্ষণ তাড়াহুড়া না করে, তার দোয়া কবুল হতে থাকে।” (মুসলিম)
আলেমরা জানান, কিছু বিশেষ সময় দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এর মধ্যে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ, সেজদার সময়, আজান ও ইকামতের মাঝখান, নামাজের পর, জুমার দিন আসরের পর এবং ইফতারের মুহূর্ত উল্লেখযোগ্য।
হাদিসে বলা হয়েছে, দোয়ায় অস্পষ্টভাবে নয়; বরং নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রার্থনা করতে হবে। যেমন বলা— “আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন”—এটি স্পষ্ট আবেদন।
কেবলামুখী হয়ে দোয়া করা।
অজু অবস্থায় দোয়া করা।
মহান নাম (ইসমে আজম) ব্যবহার করে দোয়া করা।
হাত তুলে বিনম্রভাবে দোয়া করা।
নিচু স্বরে দোয়া করা।
প্রয়োজনীয় দোয়া তিনবার পুনরাবৃত্তি করা।
দোয়ার শুরুতে জিকির ও শেষে দরুদ পড়া।
দোয়ার আগে তওবা করে গুনাহ থেকে ফিরে আসা।
আলেমরা বলেন, দোয়ার মূল বিষয় হলো বিনয়, আন্তরিকতা এবং আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা। দোয়ার মাধ্যমে মানুষ নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করে আর আল্লাহর রহমতের দিকে ফিরে আসে। তাই মুসলমানের জীবনে দোয়া শুধু ইবাদত নয়, বরং আশার বাতিঘরও।