গালফ নিউজ সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের গিলগিত-বালতিস্তানের প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম নেওয়া ক্ষুদে ভ্লগার মোহাম্মদ সিরাজ মাত্র ছয় বছর বয়সেই অসাধারণ এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা ও আয়ের অর্থ ব্যয় করেছে গ্রামের জরাজীর্ণ স্কুলকে আধুনিক রূপ দিতে।
সিরাজ ও তার ছোট বোন মুসকান ২০২২ সালে কনটেন্ট তৈরি শুরু করে। গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সহজ-সরল জীবনযাপন এবং ভাই-বোনের খুনসুটি তাদের কনটেন্টের প্রধান বৈশিষ্ট্য। অল্প সময়েই তারা লাখো ভক্ত অর্জন করে এবং পাকিস্তানের পাশাপাশি পুরো ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
খ্যাতি ও আয় নিজেদের জন্য ব্যয় না করে সিরাজ ও মুসকান সেটি ব্যবহার করেছে গ্রামের স্কুল উন্নয়নে। অনুদান ও সহযোগিতার মাধ্যমে পুরোনো স্কুলটি রূপ নিয়েছে আধুনিক **‘জাকি একাডেমি’**তে। এখন সেখানে শিশুদের পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সিরাজের বাবা মোহাম্মদ তাকি জানান, একসময় স্কুলের শিশুদের খোলা আকাশের নিচে পড়তে হতো। কারও পায়ে ছিল না জুতো, কারও ছিল না ইউনিফর্ম। তিনি আরও জানান, চাইলে তিনি পরিবার নিয়ে ইসলামাবাদে চলে গিয়ে উন্নত জীবনযাপন করতে পারতেন, কিন্তু গ্রামেই থেকে উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তাকির ভাষায়, “আল্লাহ সিরাজকে খ্যাতি দিয়েছেন। সেই খ্যাতি ও আয়ের অর্থ আমরা গ্রামের উন্নয়নে ব্যয় করেছি।”
এই উদ্যোগে এগিয়ে এসেছেন আরও কয়েকজন দাতা, বিশেষ করে ফৌজিয়া জাকি ও তার ভাতিজি জেহরা জাইদি। তাদের সহায়তায় স্কুলটি এখন একটি আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মাত্র কয়েক মাসে সিরাজ ও মুসকানের কনটেন্ট ইউটিউবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের উদাহরণ প্রমাণ করে, সোশ্যাল মিডিয়া শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, সমাজ পরিবর্তন ও উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করতে পারে।
সূত্র Gulf News