ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর করতে সরকারি হাসপাতালগুলোকে ১২ দফা নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার দেশের সব মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক, জেলার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি হাসপাতালে অবিলম্বে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিশেষ ওয়ার্ড তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসা টিম গঠন করতে হবে, যেখানে থাকবে চিকিৎসক, নার্স ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল। রোগীদের জন্য আইসিইউ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগীদের জন্য মেডিসিন, শিশু ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বোর্ড গঠন করতে হবে। তাদের তত্ত্বাবধানে মেডিকেল অফিসার ও রেসিডেন্ট চিকিৎসকরা রোগীদের চিকিৎসা দেবেন। বহির্বিভাগে আগত সন্দেহভাজন রোগীদেরও একই বোর্ড নির্ধারিত কক্ষে চিকিৎসা দেবে।
হাসপাতালের চারপাশে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভাকে চিঠি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতি শনিবার সকাল ১০টায় হাসপাতালে পরিচালক, তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জনের সভাপতিত্বে ডেঙ্গু সমন্বয় সভা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের নির্দেশনা শুধু হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করবে না, বরং রোগী ও পরিবারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে। সমন্বিত চিকিৎসা প্রক্রিয়া থাকলে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হারও কমে আসতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের বর্ষায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। যদিও হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ এখনো নিয়ন্ত্রণে, তবে যথাযথ চিকিৎসা ও সতর্কতা ছাড়া পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে পারে।