স্টাফ রিপোর্টার | জার্নাল লেন্স | সাভার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
সাভারের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটে গতকাল (২৬ অক্টোবর) রাতের দিকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সংঘর্ষের পর ড্যাফোডিলের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতেও দেখা যায়, আহত শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ বক্তব্য দিচ্ছে।
আজ সোমবার সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়,
“আমাদের শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে যেভাবে নির্যাতন চালিয়ে বক্তব্য আদায় করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অমানবিক ও অগ্রহণযোগ্য। এই ধরনের আচরণ কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংঘর্ষটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য, ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুযায়ী, সিটি ইউনিভার্সিটির কয়েকজন ছাত্র এই সহিংসতার সূচনায় যুক্ত ছিলেন। এছাড়া একটি “স্বার্থান্বেষী ও উস্কানিমূলক গোষ্ঠী” ঘটনাটিকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
শিক্ষার্থীরা দাবি জানিয়েছেন—
১. ঘটনার দ্রুত, বিশদ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করতে হবে;
২. আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে;
৩. জিম্মি করে স্বীকারোক্তি আদায়ের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি ও পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
এই বিষয়ে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি তারা খতিয়ে দেখছেন এবং ভিডিও ফুটেজসহ সকল প্রমাণ যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাভার অঞ্চলের দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
[জার্নাল লেন্স ডেস্ক]
📅 ২৭ অক্টোবর ২০২৫
📍 ঢাকা, বাংলাদেশ