স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাজধানী ঢাকা এখন বৈশ্বিক উষ্ণতার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে ঢাকাকে ‘গ্লোবাল হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ঢাকার গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস—যা জাতীয় গড়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, গত চার দশকে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়েছে ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু ঢাকায় এ হার ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি। একই সময়ে ‘অনুভূত তাপমাত্রা’ বেড়েছে ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) জানায়, ২০১৫ থেকে ২০২৩ ছিল বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ ৯টি বছর, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর প্রভাব পড়েছে ঢাকায়।
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ বলছে, ঢাকার তাপমাত্রা বৃদ্ধির মূল কারণ হলো—
ঘনবসতি ও উচ্চ ভবনে তাপ আটকে যাওয়া
সবুজ অঞ্চল হারিয়ে কংক্রিট ও অ্যাসফাল্টের বিস্তার
অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও সড়ক–শিল্পাঞ্চলের সম্প্রসারণ
যানবাহন বৃদ্ধিতে বায়ু চলাচল কমে যাওয়া
১৯৮৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ঢাকায় সবুজ অঞ্চল কমেছে প্রায় ৪৭ শতাংশ। এর বিপরীতে বেড়েছে কংক্রিটের দখল।
‘অ্যান আনসাসটেইনেবল লাইফ: দ্য ইমপ্যাক্ট অব হিট অন হেলথ অ্যান্ড দ্য ইকোনমি অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনই বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রধান কারণ। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, বন ধ্বংস ও দূষণ এ সংকটকে ত্বরান্বিত করছে।
ভিজুয়াল ক্যাপিটালিস্টের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী দেশ হলো—চীন (১৫.৯ গিগা টন), যুক্তরাষ্ট্র (৬ গিগা টন), ভারত (৪.১ গিগা টন), ইউরোপীয় ইউনিয়ন (৩.২ গিগা টন) ও রাশিয়া (২.৭ গিগা টন)।
অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের কারণে ২০২৩ সালে বাংলাদেশে প্রায় ২৫ কোটি কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে, যার ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকার বেশি (১.৩৩–১.৭৮ বিলিয়ন ডলার)। এটি দেশের মোট জিডিপির ০.৩–০.৪ শতাংশ সমান।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ৩৬ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়ছে।