সংস্কৃতি ডেস্ক
ঢাকা | সেপ্টেম্বর ২০২৫
২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি মাইলফলক নয়, বরং বৈশ্বিক ইতিহাসেও আলোচিত একটি অধ্যায়। সেই অভ্যুত্থানে প্রবাসীদের, বিশেষ করে প্রবাসী নারীদের ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলার আশিষ কিফায়েত নির্মাণ করেছেন স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র ‘আমাদ’স ড্রিম’।
৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের এই তথ্যচিত্র ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাড়া ফেলেছে। ছবিটি নির্বাচিত হয়েছে ইস্তাম্বুলের মর্যাদাপূর্ণ আনাতোলিয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ও গোল্ডেন ব্রিজ ইস্তাম্বুল শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভাল-এ। এছাড়া এটি ইস্ট ভিলেজ নিউ ইয়র্ক চলচ্চিত্র উৎসব ও অ্যাথেন্স আন্তর্জাতিক আর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সম্মানসূচক পুরস্কার অর্জন করেছে।
এক প্রতিক্রিয়ায় পরিচালক আশিষ কিফায়েত বলেন,
“জুলাই বিপ্লবকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচক, পরিচালক ও প্রযোজকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া আমার জন্য এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।”
তথ্যচিত্রটির কেন্দ্রীয় চরিত্র আমাদ মাহবুব—একজন বাংলাদেশি নারী, মেহেদি ও কত্থক নৃত্যশিল্পী। সামাজিক নিপীড়ন থেকে মুক্তি পেতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং স্নায়ুবিজ্ঞানে পড়াশোনা শুরু করেন। চলচ্চিত্রে তার সংগ্রামী যাত্রা, সাংস্কৃতিক শিকড়ের প্রতি টান ও রাজনৈতিক সচেতনতা তুলে ধরা হয়েছে।
তথ্যচিত্রে দেখানো হয়েছে, কীভাবে প্রবাসীরা জুলাই আন্দোলনে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়েছেন, কেউ অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়েছেন, আবার কেউ তাদের পেশাগত দক্ষতা কাজে লাগিয়েছেন।
আমাদের নায়িকা ‘আমাদ’ তার মেহেদি শিল্পকে গণআন্দোলনের প্রতি সংহতির এক প্রতীকে রূপ দেন এবং অর্জিত অর্থ দিয়ে মাতৃভূমির পাশে দাঁড়ান।
পরিচালক আশিষ কিফায়েত থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে। তিনি অভিবাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করছেন। ২০২৫ সালে তিনি জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের করকরান স্কুল অব দ্য আর্টস অ্যান্ড ডিজাইন থেকে নিউ মিডিয়া ফটোজার্নালিজমে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তার কাজ প্রকাশিত হয়েছে টাইমস ম্যাগাজিন, ব্লুমবার্গ নিউজ, দ্য গার্ডিয়ান এবং দ্য হিল-এ।