আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিসসহ কয়েকটি দল নির্বাচনী দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ ঘোষণা করায় বিএনপিও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি নিতে চায়।
সোমবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, বিএনপি মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে প্রার্থী বাছাই, দলীয় ৩১ দফা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ড প্রচার, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং ভোট চাওয়ার মতো কার্যক্রম হাতে নেবে। এর অংশ হিসেবে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
আগামী বৃহস্পতিবার থেকে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস তিন দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করছে। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকটি দল যোগ দিতে পারে বলে জানা গেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটি মনে করছে, এসব রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্বাচনী দাবিদাওয়া আদায়ের অংশ, তবে বিএনপি নিজস্ব কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন,
“যারা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, তাদের অধিকার আছে। তারা যদি রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে কর্মসূচি দেয়, বিএনপি তার জবাব মাঠের বক্তৃতার মাধ্যমেই দেবে।”
বৈঠকে নেতারা বলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হতে এখনো পাঁচ মাস বাকি। এ সময়ের মধ্যে দলকে পুরোপুরি নির্বাচনমুখী করতে হবে এবং দ্রুত নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করতে হবে।
বৈঠকে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রসঙ্গও আলোচিত হয়। নেতারা মত দেন, এর আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত ধারাগুলো পরবর্তী সংসদ বাস্তবায়ন করবে, আর অন্য বিষয়গুলো নির্বাহী আদেশ বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে কার্যকর করা সম্ভব।
৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর বির্তকিত কর্মকাণ্ডে দলটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বৈঠকে জানানো হয়, সাংগঠনিক ব্যবস্থার ফলে শৃঙ্খলা ফিরেছে এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি, তাদের স্বপদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকটি রাত ৮টায় শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ১১টার দিকে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। স্থায়ী কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ভার্চুয়ালি), আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।